ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের আগেরদিন অনেকটা হুট করে টি টোয়েন্টি ও টেস্ট থেকে নিজের অবসরের ঘোষণা দেন সাকিব আল হাসান। একই ঘোষণাতে তিনি উল্লেখ করেন, টি টোয়েন্টি থেকে অবসর নিলেও টেস্ট থেকে বিদায় নিতে চান সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে। অবশ্য সাকিবের এমন ইচ্ছার পর সেই ইচ্ছা পূরণ হবে কিনা তা নিয়ে ছিলো সন্দেহ। আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে সাকিব লিখেছেন দেশের মানুষের পাশে রেখে শেষ বিদায় নিতে চান সাকিব। অবশ্য সাকিবের এমন পোস্ট থেকে বুঝা যাচ্ছে, সব সংশয়ের পর সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে সাদা পোশাকে নিজের বিদায়ী ম্যাচ খেলতে দেশে আসছেন সাকিব।
এর আগে দেশে ঘটে যাওয়া ছাত্র আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন তাদের স্বরণ করেন সাকিব। নিজের এলাকা উন্নয়নের লক্ষ্যে মাগুরা-১ আসনের এমপি হয়েছেন বলেও জানান দেশের এই পোস্টার বয়। সাকিবের ভাষ্য, ‘শুরুতেই আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সে সকল আত্মত্যাগকারী ছাত্রদের, যারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন। তাদের প্রতি এবং তাদের পরিবারের প্রতি আমার অন্তরের অন্তস্তল থেকে শ্রদ্ধা এবং সমবেদনা। যদিও স্বজন হারা একটি পরিবারের ত্যাগকে কোন কিছুর বিনিময়ে পূরণ করা সম্ভব না। সন্তান হারানো কিংবা ভাই হারানোর বেদনা কোন কিছুতেই পূরণযোগ্য নয়। এই সংকটকালীন সময়টাতে আমার সরব উপস্থিতি না থাকায় আপনারা যারা ব্যথিত হয়েছেন বা কষ্ট পেয়েছেন তাদের অনুভূতির জায়গাটার প্রতি আমার শ্রদ্ধা এবং এজন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
আপনাদের জায়গায় আমি থাকলে হয়তো এভাবে মনঃক্ষুণ্ন হতাম। আমি খুবই স্বল্প সময়ের জন্য মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য ছিলাম। আমার রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হওয়াটা ছিল মূলত আমার জন্মস্থান অর্থাৎ আমার মাগুরার মানুষের উন্নয়নের জন্য সুযোগ পাওয়া। আপনারা জানেন যে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নির্দিষ্ট কোন দায়িত্ব ছাড়া নিজের এলাকার উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখাটা একটু কঠিন। আর আমার এই এলাকার উন্নয়ন করতে চাওয়া আমাকে সংসদ সদস্য হতে আগ্রহী করে।
আরও পড়ুনঃ- বাংলাদেশে প্রধান কোচ হওয়ার মতো যোগ্য কাউকে দেখছেন না তামিম
তাছাড়া সাকিব বিশ্বাস করছেন তার এই বিদায় বেলায় সবাই তার পাশে থাকবেন। এই প্রসঙ্গে সাকিব আরও বলেন, ‘এই ক্রিকেটের এই গোটা গল্পটা আপনাদের হাতেই লেখা! তাই আমার শেষ ম্যাচে, এই গল্পের শেষ অধ্যায়ে, আমি আপনাদেরকে পাশে চাই। আমি আপনাদের সবাইকে সাথে নিয়ে বিদায় নিতে চাই। বিদায়বেলায়, সেই মানুষগুলোর হাতে হাত রাখতে চাই, যাদের হাতের তালি আমার ভালো খেলতে বাধ্য করেছে। বিদায়বেলায়, সেই মানুষগুলোর চোখে চোখ রাখতে চাই, আমার ভালো খেলায় যাদের চোখ আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়েছে। আবার আমার খারাপ খেলায় যাদের চোখ ছলছল করেছে।
আমি আশা করি, শুধু আশা না বিশ্বাস করি –এই বিদায় বেলায় আপনারা সবাই আমার সাথে থাকবেন। সবাই সাথে থেকে সেই গল্পের ইতি টানবেন, যে গল্পের নায়ক –আমি নই, আপনারা!




